আমি এখনও ব্যাচেলর – প্রথম পর্ব



রাতে কোনভাবে আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেলাম, শোয়ার আগে ব্যালকোনীতে গিয়ে একটা সীগারেট ধরালাম । চেয়ারে বসে কখন ঘুমিয়ে গেলাম বুঝতে পারলাম না । সকালে দেরীতে ঘুম ভাংলো , তাড়াহুড়ো করে শার্টটা পরেই হাটা দিলাম । আজকে মুনিয়ার জন্মদিন । রাতে উইশ করা হয়নি , তাই এক ফুলের দোকান থেকে একটা তোড়া নিলাম । কখনও লাল গোলাপ দেওয়ার সাহস হয়নি । প্রত্যেক বারই হলুদ গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানাই , এবারও তাই করব – ক্যাম্পাসে যাবো, ওর সামনে গিয়ে ফুলের তোড়া টা এগিয়ে বলবো “পয়দা দিবসের শুভেচ্ছা, আজ তোর ময়দা মাখা ভালই হইছে” ও রেগে গিয়ে আমাকে একটা ঘুষি দেবে তারপর আধা ঘন্টা ভাব দেখাবে , এভাবেই রীতিমতন আমাদের বন্ধুত্বটা আজ প্রায় চার বছরে এগিয়েছে ,,

এসব ভাবতে ভাবতে হাটছিলাম, পেছন থেকে একজন নাম ধরে ডাকলেন, ফিরে দেখি আমাদের বাড়িওয়ালা । ছোট একটা বাসায় তিনজন থাকি । বাসা হিসেবে ভাড়াটা একটু বেশিই দিতে হয় , কি আর করার! ব্যাচেলরদের কেউই বাসা ভাড়া দিতে চায়না । আর বিশেষ করে বাড়িতে যুবতী মেয়ে থাকলেত গেইট থেকেই ফিরিয়ে দেয়, এমন ভাব করে যেন তার মেয়েকে ব্যাচেলর সাহেবেরা কাচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে ।

বাড়িওয়লা কে দেখে বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠলো । দুইমাসের ভাড়া বাকি তার ওপর আবার জমিদার সাহেবের মেজাজ হেব্বি খিটখিটে । আমার দিকে এগিয়ে এলেন , তার মুখে আজ রহস্যময় হাসি দেখছি । ইহা কোন আগাম বিপদের আভাস বুঝতে বাকি রইল না । আমি মাথা নিচু করে রইলাম । তিনি কাছে এসে বললেন “বাবা ভাল আছ ??”

— জ্বী আঙ্কেল , আল্লাহর রহমতে ভাল । আপনে ভাল আছেন ?

”হ বাবা, তোমাগোলয় ই তো ভালা থায়ি । অখন তোমরা যদি এই বুড়ামানুষটারে না দেহ তাইলে ক্যাম্বে ভাল থাহি বাবা তুমিই কও !”

— ইয়ে মানে, জ্বী আঙ্কেল টিউশনির বেতনটা পেলেই ভাড়া দিয়ে দেবো, টেনশন নিয়েননা । আর ওরাওত এখনও গ্রাম থেকে আসেনাই । আমি একা কেমনে দেব বলেন ?? “”

বুড়া তার চেহারাখানাকে খুবই জঘন্যভাবে বেকিয়ে বললেন “দেহ বাবা আর মাত্র এক সপ্তার মধ্যি দুই মাসে ট্যাহা গুলান দিয়া তুমরা আমার বাড়ি খালি করবা – মনে থায়ে যেন !” এরপর আরও কি যেন বদ বদ করতে করতে বুড়া উত্তর দিকে হাটতে শুরু করল ।

একটা রিক্সা ধরে সোজা ক্যাম্পাসে চলে এলাম । মুনিয়াকে ফোন দিলাম কিন্তু ধরলো না, ওকে খোজার জন্য ক্লাসে গেলাম কিন্তু ওখানেও নেই। ক্যান্টিন , লাইব্রেরী সব যায়গায় খুজলাম ‍কিন্তু পেলামনা ।

ক্যাম্পাসের পুকুড় পাড়ে গিয়ে বসলাম, আমার কেমন যেন লাগছে । আজ ক্লাস করার ইচ্ছা নেয় ।

কিছুক্ষনপর সোজা বাসায় চলে এলাম। মায়ের কথা মনে পড়ছে , কতদিন যে মায়ের হাতের রান্না খাওয়া হয়না । ইস! যদি আজ মা রান্না করে খাইয়ে দিতেন খুব ভাল হত – ভাবতে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম । দুপুরে কলিংবেলের শব্দে ঘুম ভাংলো । দরজা খুলতেই মুনিয়া আমার নাকের ওপর একটা ঘুষি মারলো , ভালই ব্যাথা পেলাম । ও আমাকে ধাকা দিয়ে ভেতরে ঢুকলো । আহা,, ঘরের অবস্থা দেখে বেচারী মুখে ওড়না ধরে রেখেছে ।

বোধহয় রুমে একটু গন্ধ হয়েছে । পড়শুদিনের ময়লা গুলো আজও রান্না ঘরে পড়ে আছে । বোয়া আসেনি, তাই ময়লা গুলও ফেলা হয়নি । হঠাৎ মুনিয়া এসে যাওয়াতে একটু লজ্জায় পড়ে গেলাম । তাড়াতাড়ি ময়লাগুল গুছিয়ে নিয়ে ডার্সটবীনের দিকে গেলাম । বাসায় এসে দেখি মুনিয়া একটা কেক আমার পড়ার টেবিলের ওপর সাজিয়েছে । কেকের উপর মুনিয়ার নাম লেখা । আমি ফুলের তোড়া টা ব্যাগ থেকে বের করে ওর দিকে এগিয়ে আসলাম , ওর হাতে তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানালাম । ও বললো “তোর সাথে সেলীব্রেশন করার জন্য চলে এলাম ” ,, আমি বললাম ভাল করছিস, খুব ক্ষুদা লাগছে , রান্না করে খাওয়া ।

সন্ধ্যায় মুনিয়া বাসার দিক চলে গেল। দুপুরে দুজন একসাথে খেলাম তারপর ছাদে গিয়ে আড্ডা দিলাম । আমি সীগারেট ধরালে মাঝে মাঝে মুনিয়া আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে এক টান দেয় তারপর কাশতে কাশতে ওর চোখমুখ লাল টামাটোর মতন হয়ে যায় , তখন দেখতে খুব মজাই লাগে । ব্যাপারটা নিস্বন্দেহে উপভোগ্য । একশাথে হলে দুজনের ভালই সময় কাটে ।

সাতটার দিকে টিউশনী আছে , ওখানে যেয়ে দেখি ছাত্রীরা বাসায় নেই, বাইরে তাঁলা ঝুলানো, খুব রাগ হলো । আমাকে একটা ফোন করে বলে দেওয়া উচিত ছিলতো নাকি! মানুষের আক্কেল দিন দিন এত কমে যাচ্ছে কেন – এদিকে মাস শেষে হয়ে আরও এগারো দিন হয়ে গেল আজও বেতনটা দিচ্ছেনা । বাড়িতে আব্বার জমীতে এবার ফসল হয়নি তাই এবার টাকাও দেয়নি । হাতের টাকা শেষ, বন্ধুদের কাছে থেকে ধার নিয়ে কোনভাবে চলছি ।

—– ব্যাচেলর জীবন চলতে থাকবে

মোস্তাফিজ আর রহমান

আসসালামু আলাইকুম,, আমি মোস্তাফিজ, ডাক নাম উল্লাস । আপনি আমার এবাউট পড়ছেন এর মানে আপনি এই মুহুর্তে আমার প্রোফাইলে আছেন এবং তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আসলে আমি যখন থেকে ইন্টারনেট জগতের সাথে পরিচিত হয়েছি ঠিক তখন থেকেই অনলাইনে বিভিন্ন লেখকদের লেখা পড়তাম আর তাদের কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করার চেষ্টা করতাম । আমি ২০১২ তে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম , তারপর ওয়েবসাইট এবং সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর উপর কোর্স করে পড়াশুনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করতে থাকি । ব্লগিংএ খুব বেশি আকর্ষন থাকার কারনে ২০১৭ এর ৮ই অক্টোবর ”জনতা ব্লগ” এর প্রতিষ্ঠা করি। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি ব্লগ এ মানসম্মত কিছু লোখার জন্য, তাই পাঠকদেরে কাজে লাগবে সেই সমস্ত টপিক গুলোর উপরেই লেখার চেষ্টা করি । ”জনতা ব্লগ” এর অন্যান্য লেখকদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই তাদের মুল্যবান প্রকাশনা গুলোর জন্য । একটা ব্লগের সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ হলো সেই ব্লগ এর নিয়মিত যারা লেখক এবং পাঠক আছেন, তাহাদের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। তাই আপনাদের আবারও ধন্যবাদ জানাই ”জনতা ব্লগ” এর হাতে হাত রেখে পাশাপাশি চলার জন্য । আপনারা পাশে আছেন বলেই আমরা এ পর্যন্ত এগিয়ে আসতে পেরেছি ।

Related Posts