ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিবেশীর হক



নভেম্বর 20, 2017

জীবনের গল্প

4

1,344

শহরের মানুষেরা প্রতিবেশীর অধিকারের ব্যাপারে অসচেতন। আমাদের ফ্লাটবন্দি জীবন প্রতিবেশীর হক আদায়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতেও বড় বাঁধা। অথচ ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ সা. বলেছেন, হজরত জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, আমার মনে হয়েছে প্রতিবেশীকে আমার পৈতৃক সম্পদের অংশিদার বানিয়ে দেওয়া হবে। (বুখরি শরিফ : ৬০১৪) নবীজি আরও বলেছেন, যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করে। (মুসলিম শরিফ : ১৮৫) নবীজি আরও বলেছেন, যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। (মুসলিম শরিফ : ১৮৩) প্রতিবেশির প্রশ্নে ইসলাম অনেক উদার। মুসলিম, অমসুলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ খৃষ্টান, ভালো-মন্দ, বন্ধু, শত্রু, দেশী, ভিনদেশী, উপকারী, ক্ষতিসাধনকারী, আত্মীয়, অনাত্মীয় ইত্যাদির কোনো সীমারেখা নেই। যে পাশে, যে কাছে সেই প্রতিবেশী। যদিও সে চলার পথে গাড়ির সিটের প্রতিবেশী হয়! প্রতিবেশীর সঙ্গে কেমন আচরণ হবে? আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং কোনো কিছুকে তার সঙ্গে শরিক করো না। এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্থ, নিকট-প্রতবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সংঙ্গী-সাথী, মুসাফির ও তোামাদের দাস-দাসিদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার কর। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা নিসা: ৩৬ ) প্রতিবেশীর মর্যাদার জন্য নবীজি বলেছেন, যে স্বীয় প্রতিবেশীর দৃষ্টিতে ভালো সেই সর্বোত্তম প্রতিবেশী। (ইবনে খুযাইমা হা/২৫৩৯) প্রতিবেশীর ব্যাপরে অসচেতন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নবীজি। বলেছেন, ঐ ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয় যে পেটপুরে খায় অথচ তার পাশের প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে। (আল আদাবুল মুফরাদ, হা/১১২) প্রতিবেশীর সহযোগিতায় এগিয়ে আসলে আল্লাহ সাহয্য প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি আছে হাদিসে। মহানবী সা. বলেছেন, যে তার ভাইয়ের প্রয়োজনে এগিয়ে আসবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পুরা করবেন। (বুখারি শরিফ : হা/ ২৪৪২) পরস্পর উপহার দেওয়া নেওয়ার প্রতিও উৎসাহিত করেছেন নবীজি! বলেছেন, তোমরা পরস্পর উপহার দেওয়া নেওয়া করো। এর মাধ্যমে আন্তরিকতা তৈরি হবে। (বুখারি শরিফ: ৫৯৪) নবীজি সা. সহাবি আবু যর রা.- কে বলেন, হে আবু যর, তুমি তরকারি রান্না করলে, ঝোল বাড়িয়ে দিও এবং তোমার প্রতিবেশীকে তরকারির অংশিদার করো। (মুসলিম শরিফ : ২৬২৫) হজরত মুজাহিদ রহ. বলেন, একবার আমি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর কাছে ছিলাম। তার গোলাম একটি বকরীর চামড়া ছাড়াচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, তোমার এ কাজ শেষ হলে সর্বপ্রথম আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে দিবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ আপনার শুভবুদ্ধি দান করুক! আপনি ইহুদিকে আগে দিতে বলছেন! তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি মহানবী সা. কে প্রতিবেশীর হকের বিষয়টি এত্তো বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলতে শুনেছি যে, আমাদের মনে হয়েছে, প্রতিবেশীকে পৈতৃক সম্পদের হকদার বানিয়ে দেওয়া হবে। (বুখারি শরিফ : হা/১২৮)

Related Posts