চিরচেনা ইটের দেয়ালে শেওলা ধরা ধ্বংশস্তূপ ।



জীবনের অলিগলি গুলো অনেকটা সময়ের সাথেই দিক পরিবর্তন করে ফেলে, তেমনই যেমনটা হয়ে থাকে অনেকটা নদীর স্রোতের মতন । যে নদীতে স্রোত বেশি সে নদী দিক পাল্টাতেই থাকে । পাল্টে যায় বৈচিত্রতা, চলাফেরার ধরন, কথা বলা, হাসি কান্না আরও কত কি!
আমাদের চারপাশ আমাদের পাল্টাতে বাধ্য করে । আমাদের আপনজনেরা আমাদের পথ দেখিয়ে সামনে এগোতে সাহায্য করে, আবার সেই আপন জনেরাই আমাদের অন্ধকারে বিভিষীকায় ঠেলে দেয় । তবু আপনজনেরায় তো চিরচেনা হয় । মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব এরাই থাকে ভালবাসার সবটুকু জুড়ে। একটু অন্য জগতের কথা বলতে চাচ্ছিলাম ।
যারা বারো থেকে চৈদ্দ বছর বয়সী তারা আছো বাড়ন্ত বয়সে , সময়টা খুবই খারাপ! শরীরের বিভিন্ন জায়গাতে পরিবর্তন দেখছো নিজের চোখেই । এ সময়টায় শরীরে চেয়ে মনের পরিবর্তন হয় সবচেয়ে বেশি । তোমরা শুধু শারীরিক পরিবর্তটায় দেখছো, মানষীক পরিবর্তনটা তোমাদের চক্ষুগোচর হয়ে যায়, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এই সময়টায় এমনই, এই সময়ে মনের চেয়ে শরীরের ব্যাপারটাই বেশি গুরুত্ব পায় ।

মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্থ যারা, আর্টিকেলটা মনোযোগ সহকারে পড়বেন ।

ভাবুক মনে কত কিছুই না বাসা বাধে এ বয়সে। নতুনত্বের ছোয়া পায়, ভাল লাগতে শুরু করে কিছু অনুভুতি ।
তোমরা বুঝতে পারোনা কোনটা ঠিক, কোন সময়টাতে তোমরা আছো । এই সময়টাতেই আমাদের মন ভুল করতে অনুপ্রাণিত হয় । ভুল চিন্তা গুলো মাথায় ঘুরপাক খায়, সবই যেন ভাল লাগে, স্বপ্নের পৃথিবীটা আরও বেশি স্বপ্নময় হয়ে ওঠে। আমি এই সময়েরই কথা বলছি , বলছি একটা ষোল বছর বয়সী ছেলের কৈশর পেরিয়ে যৌবনে পা রাখার গল্প ।


প্রতিটা মানুষের জীবনে প্রথম প্রেম আসে ঐ বাড়ন্ত বয়সেই, কিন্তু বেশিরভাগটায় মনে মনে থেকে যায়, কৈশরের ভালো লাগা প্রকাশ পায়না । কিন্তু ভুল সীদ্ধান্ত নেওয়ার সময়টা আসতে আসতে সামনে এগিয়ে আসে । মনের সাথে সাথে শরীরেও চাহিদা চলে আসে । এই ব্যাপারটাতে একটা ছেলে আর একটা মেয়েকে আলাদা করা যায় না । শরীর তো দুজনেরই , শারীরিক চাহিদা দুজনের থাকাটায় স্বাভাবিক । মনে ভালবাসার চাহিদা আর শরীরে কাছে পাওয়ার আকর্ষন এই দুইয়ে মিলেই একজন মানব আর একজন মানবী দুজন দুজনের প্রতি আকর্ষিত হয় । এই আকর্ষনকে আমরা নাম দিই ভালোবাসা । এটা আসলে ভঅলবাসা না , একে বলে এট্রাকশন । এট্রাকশন কখনই চিরস্থায়ি হয়না । মনোবিজ্ঞানিদের মতে মানুষের এট্রকশ সর্বোচ্চ দুই বছর স্থায়ী হয়, এরপর আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে। আর এই এট্রাকশনের কারনেই বেশিরভাগ ছেলে মেয়ে ভুল করে বসে, ভুলে যায় নৈতিকতা । এই বয়সের সমস্যায় এটা, মানসিকতার অবক্ষয় শুরু হয় এই সময়েই অনেকটা বাড়ন্ত কড়ির মতন, একটা ফুলের কড়িতে যদি কেউ হাত দেয় তাহলে সে কড়ি আর ফুলে রুপান্তন হতে পারেনা, নষ্ট হয়ে যায় , পচে যায় ।

এই সময়ে আমরা যে ভুল গুলো করি তা থেকেই আমাদের ভবিষ্যাৎ প্রভাবিত হয় ।যে নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখে সে নৈতিকতার দিক থেকে জিতে যায় , যে নিয়ন্ত্রনে থাকেনা সে নৈতিকতায় হেরে যায় । একই ভুল একবার করে ভুল বুঝার পরে আর না করা মহত্বে একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য, কিন্তু সেই ভুল বার বার করাটায় হলো কুকুর স্বভাবের পরিচয় । কুকুরকে দেখেছি রাস্তায় যেখানে সেখানেই যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হতে । এই বৈশিষ্ট মানুষের মধ্যেও দেখা যায়। এরা সমাজেকে নোংরা করে বেড়ায়।ছবিটাতে দেখো , তুমি নিজেই বিচার করো  এদের দেখে তোমার কি মনে হচ্ছে । এরপর এদের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে একবার চিন্তা করো, এই ছবিতে যদি তুমি থাকতে তাহলে সমাজ তোমাকে নিয়ে কি ভাবতো । কুকুরকে দেখেছি রাস্তায় যেখানে সেখানেই যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হতে । এই বৈশিষ্ট মানুষের মধ্যেও দেখা যায়।সময়ের সাথে সাথে সবই পরিবর্তিত হয় এটা ঠিক । মানুষের সাথে মানসিকতারও পরিবর্তন আসে । একটা মানুষ যখন যৌবনে পা রাখে তখন তার যৌন চাহিদাটাও বেড়ে যায় । কিন্তু এর সাথে বেড়ে যায় তার নিজের মুল্যবোধ, বিবেক বুদ্ধি সাথে ভাল-মন্দ বিচার বিবেনা করার মানসিকতা । যার কারনে এই সময়ে মা-বাবা এবং অন্যান্য গুরুজনেরাও শাসন করা কমিয়ে দেয় , বেড়ে যায় স্বাধীনতা , বেড়ে যায় একাকি চলাফেরার করার অধিকার । এই সময়ে জীবনে নানা রকম এবং নানা জাতের বন্ধু বান্ধবের আবির্ভাব ঘটে । কিন্তু তারপরেও এই বয়সে এসে মানুষ ভুল কম করে একমাত্র তার বিবেক বুদ্ধির জোরেই । এ সময়ে যে সম্পর্ক গুলো হয় তার বেশিরভাগ শরীরের কামনা  মেটানোর উদ্দেশ্যেই হয়, আসলে এই উদ্দেশ্য সবারই থাকে । কেউ যদি বলে তার এ ধরনের কোন উদ্দেশ্য নেই, বুঝে নেবেন সে বড়ো ধরনের ন্যাকা মার্কা মানুষ । কিন্তু তারপরেও কিছু সম্পর্ক গড়ে ওঠে সারা জীবন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিতে । কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি সবসময় সফল হয়না । মানুষ ধোকা দেয়া শিখে যায় সেই ছোট বেলাতেই যখন সে একটু একটু করে মিথ্যা বলতে শেখে । এভাবেই মিথ্যে দিয়ে সাজানো থাকে কিছু মানুষের মন । আর আমরা বেশিরভাগ সময়ই জীবনের প্রথম কি দ্বীতিয় প্রেমের ক্ষেত্রে ভুল মানুষ নির্বাচন করি, এর প্রধানত কারন হলো আমরা যেমন আমাদের বাড়ন্তে বয়সে মানসিক পরিবর্তনের চেয়ে শারীরিক পরিবর্তনটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি ঠিক তেমনিই এই বয়সে এসেও বিবেকের চেয়ে বেশি আবেগটাকে বেশি প্রাধান্য দিই , আর এতেই আমরা আমাদের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ন সময়ে ভুল মানুষকে পাওয়া জন্য  ভুল সীদ্ধান্ত নিয়ে নিই যা আমাদের মন মানসিকতাকে একেবারেই নষ্ট হয়ে যায় । আর এই সামান্য ভুলটায় প্রভাব ফেলে আমাদের সারা জীবনের উপর।

আমি আমার এই লেখার শিরোনাম দিয়েছি ”চিরচেনা ইটের দেয়ালে শেওলা ধরা ধ্বংশস্তূপ”,, এর যথেষ্ট কারনও আছে বটে, আমি ইটের দেয়ালটাবে আসলে আমাদের মানসিকতার সাথে তুলনা করেছি। জীবনকে উপভোগ করতে গিয়ে এমন কিছু করোনা যাতে করে নিজের কাছে নিজেকেই হারিয়ে ফেলতে হয় । জীবনকে উপভোগ করো ভালোর দিক থেকে , খারাপের দিক থেকে তুমি নিজেকে উপভোগ করতে চাইলে তা হবে সাময়িকের জন্য , অবশেষে তোমার কাছে তুমি নিজেই স্তূপে পরিনত হবে।  এখন পর্যন্ত যে ভুল গুলো করেছো সেগুলো ভুলে গিয়ে নতুন করে জীবনটাকে শুরু করো । মা বাবা কে এবং তোমার চেয়ে বড় সবাইকে সম্মান করো, ছোটদের স্নেহ করো নিজেকে তোমার চেয়ে ছোটদের জন্য রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করো । তুমি নিজেই বুঝতে পারবা জীবন কতটা সুন্দর । খারাপের মাঝে তুমি কখনই জীবনের সৌন্দর্য খুজে পাবেনা , বরং একসময় নিজের জীবনকে তোমার নিজেরই নরক বলে মনে হবে । 

আমার এ লেখা পড়ে যদি বিন্দুমাত্র অনুশোচনা হয় তাহলে আসো আমরা আজ নিজের কাছে নিজেই শপথ করি, ”যে এখন থেকে আমরা আমাদের সমস্ত খারাপের কিছু অংশ হলেও বর্জন করার চেষ্টা করবো”  আসো চলি আলোর পথে, আসো চলি ভালবাসার পথে , এই স্লোগানই হয় যেন সবার জীবনের মুখ্য কাম্য ।  

 

মোস্তাফিজ আর রহমান

আসসালামু আলাইকুম,, আমি মোস্তাফিজ, ডাক নাম উল্লাস । আপনি আমার এবাউট পড়ছেন এর মানে আপনি এই মুহুর্তে আমার প্রোফাইলে আছেন এবং তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আসলে আমি যখন থেকে ইন্টারনেট জগতের সাথে পরিচিত হয়েছি ঠিক তখন থেকেই অনলাইনে বিভিন্ন লেখকদের লেখা পড়তাম আর তাদের কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করার চেষ্টা করতাম । আমি ২০১২ তে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম , তারপর ওয়েবসাইট এবং সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর উপর কোর্স করে পড়াশুনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করতে থাকি । ব্লগিংএ খুব বেশি আকর্ষন থাকার কারনে ২০১৭ এর ৮ই অক্টোবর ”জনতা ব্লগ” এর প্রতিষ্ঠা করি। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি ব্লগ এ মানসম্মত কিছু লোখার জন্য, তাই পাঠকদেরে কাজে লাগবে সেই সমস্ত টপিক গুলোর উপরেই লেখার চেষ্টা করি । ”জনতা ব্লগ” এর অন্যান্য লেখকদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই তাদের মুল্যবান প্রকাশনা গুলোর জন্য । একটা ব্লগের সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ হলো সেই ব্লগ এর নিয়মিত যারা লেখক এবং পাঠক আছেন, তাহাদের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। তাই আপনাদের আবারও ধন্যবাদ জানাই ”জনতা ব্লগ” এর হাতে হাত রেখে পাশাপাশি চলার জন্য । আপনারা পাশে আছেন বলেই আমরা এ পর্যন্ত এগিয়ে আসতে পেরেছি ।

Related Posts