ডাক্তার বানানোর বাণিজ্য : সরকারি Vs বেসরকারি মেডিকেল



( মডারেটর )

জানুয়ারী 13, 2018

পড়ালেখা

5

959

চিকিৎসা শাস্ত্রের ‘উন্নত মান’ রাষ্ট্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা চিকিৎসক-ইঞ্জিনিয়ার হতে খুবই উৎসাহী। তীব্র প্রতিযোগিতায় তারা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন। কিন্তু সবার ভাগ্যে জোটে না চিকিৎসা শাস্ত্র পড়ার। সরকারী মেডিকেল কলেজের আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় ব্যাক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে অনেক মেডিকেল কলেজ। সেগুলো যেন হয়ে উঠেছে ডাক্তার বানানোর বাণিজ্যালয়। ওই সব মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন না তুলেও বলা যায় সেগুলো ছাত্রছাত্রীদের ডাক্তার বানানোর বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। এমনিতে বেসরকারি মেডিকেলে পড়তে হলে বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন। মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের পক্ষ্যে সে অর্থের যোগান দেয়া কঠিন। সেই সুযোগে মেধার বদলে টাকার জোরেও ভর্তি হন অনেকই। আর বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো টাকা নিয়ে ভর্তির জন্য মুখিয়ে রয়েছে। অতিরিক্ত টাকা নিয়ে বা ডোনেশন দিয়ে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা ডাক্তার হলে তাদের কাছে ভাল চিকিৎসা সেবা কি প্রত্যাশিত? বেসরকারি মেডিকেল কলেজ চালু হওয়ার পর অনেকের ছেলেমেয়েদের ডাক্তার বানানো ফ্যাশন হয়ে গেছে। টাকা খরচ করে ছেলেমেয়েদের মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। কিন্তু লেখাপড়া শেষে তাদের কতজন চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন? বেসরকারি মেডিকেল কলেজে অধিক অর্থ দিয়ে ভর্তির দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে গেছে। অভিভাবকদের অনেকেই অভিযোগ করছেন তাদের কাছে অধিক অর্থ দিয়ে ভর্তির প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) প্রফেসর ডা. আব্দুর রশিদ বলেন, এ ধরনের কোন সংবাদ আমি শুনিনি। তবে এমনটি হলে তা সুষ্পষ্টভাবে সরকারি নীতিমালার লঙ্ঘন। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যুগ্ম সচিব (শিক্ষা) ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভর্তি করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে মেধা তালিকার ভিত্তিতে ভর্তি করার নিয়ম।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি নিয়ে বাণিজ্য শুরু হয়ে গেছে। ভর্তি কার্যক্রম শুরুর আগেই অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ন্যূনতম পাশ নম্বর প্রাপ্তদের ভর্তির সুযোগ দিতে মেডিকেল কলেজ ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে দরকাষাকষি চলছে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই এসব ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে বেশকিছু মেডিকেল কলেজ ২ থেকে ৫ লাখ টাকা বুকিং মানিও রাখছে। এছাড়া সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফি ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা হলেও ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। বেসরকারি পর্যায়ে ৬৯টি মেডিকেল কলেজের ৬ হাজার ২৫০টি আসনের বিপরীতে পাঁচ লাখ টাকা করে বেশি আদায় করলে অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে। আর তাই বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তিতে কয়েক’শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে একটি চক্র সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছে।
এদিকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু না হলেও ইতোমধ্যে ন্যূনতম পাশ নম্বর পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজগুলোর ৫ শতাংশ দরিদ্র শিক্ষার্থী কোটায় অর্থের বিনিময়ে ভর্তির তদবির শুরু করেছেন। এজন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ছুটোছুটি করছেন। তাই দরিদ্র কোটায় প্রকৃত দরিদ্র শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভর্তিচ্ছুরা মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি না হলে এই কোটার আসনে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করে আসল দাবিদারদের বঞ্চিত করা হবে।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের চিকিৎসক হিসেবে তৈরি করার জন্য সরকারের উদ্যোগে ৫ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হলেও তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (শিক্ষা) ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, দরিদ্র কোটায় অন্য কোন শিক্ষার্থী ভর্তির কোন সুযোগ নেই। এটি তদারকির জন্য একটি কমিটি আছে। তারা ভর্তির পরও প্রয়োজনে তালিকা যাচাই-বাছাই করবে। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোর বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এ বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় বেশি শিক্ষার্থী পাশ করায় এবং ৯টি মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্থগিত করায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর পোয়াবারো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে। ভর্তির সুযোগ পাবেন এমন আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও তা হাতছাড়া করতে রাজি নয়। যত টাকা লাগুক মেডিকেল কলেজে একটি আসন যেন তাদের চাই’ই চাই। আর তাই চলতি শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তিকে কেন্দ্র করে কয়েকশ’ কোটি টাকা লুট হওয়ার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই ভর্তি পরীক্ষায় পাশকৃত শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল ভিতরে ভিতর

আলামিন

লেখক

Related Posts