ধর্ষন এবং ধর্ষকের বিরুদ্ধে সবাই একত্রিত হয়ে রুখে দাড়াই ।



আমাদের সোশ্যালে প্রতিনিয়তই কোন না কোন অনাকাংক্ষিত ব্যাপার ট্রেন্ড পাচ্ছে। কখনও শিশু নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষন আবার কখনও কখনও পরকীয়া জাতীয় ব্যাপারা স্যাপার ।

মনে আছে,, যখন ”তনু“ নির্যাতনের স্বীকার হলো তখন এদেশের যুব সমাজ গর্জে উঠছিল,, মনে হচ্ছিল তনু একা ছিল না । ওর সাথে যারা অন্যায় করেছে তাদের শাস্তি হবেই । কিন্তু হয়নি, ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেল সমাজ , ধ্বসে পড়লো মানবতা ।

তার চেয়ে বেশি খারাপ লাগছে এই ভেবে, যে তনুর হত্যাকারিদের জন্য যারা আন্দোলন করেছিল, ”এরা” হয়ত তাদের মধ্যে ছিল। এরা কারা ?? এরা তারা যাদের বিরুদ্ধে আজ তোমরা আন্দোলন করছো ।

মাঝে মাঝে কিছু মানুষের বক্তব্য দেখি, কারও কারও পোস্ট সামনে আসে, কেউ আবার মন্তব্যেই তার মতামত পেষ করে ।
কেউ বলছে ধর্ষন করা শুধু ধর্ষনকারির মানুষিকতার ব্যাপার , কেউ বলছে মেয়েদের পোশাক দায়ি, আবার কেউ দায়ি করছে মাদককে।
হ্যাঁ, সব গুলোই ঠিক আছে । কিন্তু শুধু একটা কারনকে দায়ি করা যাবেনা । আমাদের সমাজের অবক্ষয়ের জন্য এই সকল কারনই দায়ি ।
কেই যদি শুধু ছেলেদের মানষিকতাকেই দায়ী করেন এবং নিজে অর্ধ উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ানোকে জায়েজ হিসেবে উপস্থাপন করেন তাহলে আমি বলবো ”আপনি নিশ্চয় এটাই চান যে কেউ আপনাকে ধর্ষন করুক,, জোর করেই আপনাকে কেউ খেয়ে দিক আপনি এটায় চান” ।
আর যদি কেউ এটা মনে করেন যে.. “একটা মেয়ের পোশাকই শুধুমাত্র তার ধর্ষনের জন্য দায়ি আর এতে ধর্ষকের কোন দোষ নেই” তাহলে আপনার এই অসুস্থ চিন্তার কারনে সমাজ ভেবে নেবে -“আপনার ঘরে আপনার নিজের বোনটাও আপনার কাছে নিরাপদ না” ।

সোজা হিসেবেই বলি,,
ধর্ষনের মতন একটা জঘন্যা ঘটনার ঘটার জন্য প্রথমত সবচেয়ে বেশি দায়ি ঐ কুত্তার বাচ্চা ধর্ষকের । কিন্তু এর পেছনে মেয়েদের কিছু অসাবধনতা এবং খামখেয়ালিপনা ও দায়ি থাকে । আমি কথা গুলো বলছি বাস্তবিকতার খাতিরেই , বিশ্বাস না হলে চট্টগ্রামের নাগরীকরা স্বাধীনতা কমপ্লেক্স এ যান, ঢাকার নাগরিকা রমনা পার্ক এ যান, বিভিন্ন ডার্ক রেস্টূরেন্ট নামক এক প্রকার অন্ধকার হোটেল আছে, ওখানে যান – টর্স লাইট নিয়ে গিয়ে দেখেন রামলিলা ।
দেখতে পাবেন – সেই সমস্ত ভাল ঘরের আপুদের, এদের মধ্যে অনেকেই আবার ধর্ষনের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং ধর্ষনের জন্য শুধু মাত্র ছেলেদের মানষিকতাকে দায়ি করে , অথছ নিজে স্বেচ্ছাতেই ধর্ষন হচ্ছে প্রেমের নাম করে ।

মা বাবারা কি দায়ি না ??
সন্তানের প্রতিটা পদক্ষেপের খোজ নেওয়া ,, ছেলে হোক আর মেয়ে হোক – বাচ্চা বয়স থেকেই ডিসিপ্লিনে থাকার অভ্যাস, অপসংস্কৃতি এড়িয়ে চলা , মেয়েদের পর্দাশিলতার অভ্যাস করানো এসব দায়িত্ব অবশ্যই মা বাবার ।
আপনাদের যুবতী মেয়ে সন্ধ্যার পর একটা পর-পুরুষের সাথে ডার্ক রেস্টূরেন্টে যায়, এ ব্যাপারে আপনাদের মতামত কি ?
একটু খোজ নেবেন। কোচিং এর টিচারের ফোন নাম্বার নেন । মাঝে মাঝে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেন আপনার সন্তার আদৌ কোচিং এ গেছে কিনা। বিশ্বাস করবেন, সন্তানকে বিশ্বাস করতেই হবে, ‍কিন্তু তা যেন অন্ধ না হয়।

ছেলেদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হচ্ছে একটা ছেলের চরিত্র ঠিক হয় তার বাড়ন্ত বয়সের সময় । এই বয়সেই একটা আলেমের জন্ম হতে পারে আবার জন্ম হতে পারে একটা ধর্ষকের । তাই এই বয়সটাতেই যদি বাবা মা তার সন্তানের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে কাছাকাছি থাকতে পারে তাহলে হয়তো সেই ছেলে কিংবা মেয়ের চরিত্রের বারোটা বাঁজবে না ।

আপুদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলি…
ধর্ষকের ফাঁসির দাবি করেন, আমিও করি,, গোটা যুব সমাজ করে.. তবে যাই করেন, খাম-খেয়ালিভাবে ঘুরে বেড়াবেন না, বুকের ওড়না গলাই ঝুলাবেননা । সন্ধ্যার পর টিউশনি থাকলে ছেড়ে দেন, নিজের বাসায় ব্যাচ পড়ান । যারা চাকরী করেন তারা সতর্ক হোন.. যাত্রী নেই এমন কোন বাসে হুটহাট উঠে যাবেননা । সিএনজি, ট্যাক্সি যাতেই উঠুন না কেন ফোনে যথেষ্ট ব্যালেন্স, চার্জ রাখুন । সন্দেহজনক কিছু দেখলে ঘটনা ঘটা পর্যন্ত চুপচাপ অপেক্ষা না করে সেখান থেকে লোকালয়ে সরে আসার চেষ্টা করেন, ফোনে আপনার বাপ, ভাই, যাকেই পারেন ইনফর্ম করে দেবেন। যদি না পারেন তাহলে যত জোরে পারেন চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিবেন ।
একটা কথায় মনে রাখবেন, ,, সিনেমার মত হঠাৎ করে কোন নায়ক এসে আপনাকে বাঁচাবেনা । বরং আপনার নিজের সাবধানতাই আপনাকে বাঁচিয়ে দেবে ।

আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য আমরা তরুন প্রজন্মই শুধু দায়ি না । যাদের আমরা দাদা নানা বলে সম্মান করছি এদের মধ্যেও রাক্ষস আছে । এই রাক্ষসগুলোর থেকে সমাজটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে ।

মোস্তাফিজ আর রহমান

আসসালামু আলাইকুম,, আমি মোস্তাফিজ, ডাক নাম উল্লাস । আপনি আমার এবাউট পড়ছেন এর মানে আপনি এই মুহুর্তে আমার প্রোফাইলে আছেন এবং তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আসলে আমি যখন থেকে ইন্টারনেট জগতের সাথে পরিচিত হয়েছি ঠিক তখন থেকেই অনলাইনে বিভিন্ন লেখকদের লেখা পড়তাম আর তাদের কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করার চেষ্টা করতাম । আমি ২০১২ তে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম , তারপর ওয়েবসাইট এবং সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর উপর কোর্স করে পড়াশুনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করতে থাকি । ব্লগিংএ খুব বেশি আকর্ষন থাকার কারনে ২০১৭ এর ৮ই অক্টোবর ”জনতা ব্লগ” এর প্রতিষ্ঠা করি। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি ব্লগ এ মানসম্মত কিছু লোখার জন্য, তাই পাঠকদেরে কাজে লাগবে সেই সমস্ত টপিক গুলোর উপরেই লেখার চেষ্টা করি । ”জনতা ব্লগ” এর অন্যান্য লেখকদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই তাদের মুল্যবান প্রকাশনা গুলোর জন্য । একটা ব্লগের সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ হলো সেই ব্লগ এর নিয়মিত যারা লেখক এবং পাঠক আছেন, তাহাদের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। তাই আপনাদের আবারও ধন্যবাদ জানাই ”জনতা ব্লগ” এর হাতে হাত রেখে পাশাপাশি চলার জন্য । আপনারা পাশে আছেন বলেই আমরা এ পর্যন্ত এগিয়ে আসতে পেরেছি ।

Related Posts