প্রকৃতির বিষ্ময়: এন্টি অক্সিডেন্ট



সুস্থ থাকার জন্য আমাদের শরীরে এন্টি-অক্সিডেন্টের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ, প্রতিনিয়ত শরীরের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন ধরণের ক্রিয়া কৌশল, সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি, সিগারেটের ধোঁয়া, বায়ুদূষণ ইত্যাদির প্রভাবে আমাদের শরীরে তৈরি হয় ফ্রী-রেডিক্যাল। অতিরিক্ত ফ্রী-রেডিক্যালের কারণে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন: হূদপিন্ড, যকৃত, মস্তিষ্ক, বৃক্ক, চোখ ইত্যাদি ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। তাই এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফ্রী-রেডিক্যালগুলোকে নিস্ক্রিয় করা খুবই প্রয়োজন। এর জন্য দরকার এন্টি-অক্সিডেন্ট, যা ফ্রী-রেডিক্যালকে নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম। পরিচিত কিছু এন্টি-অক্সিডেন্ট হল: ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘ই’, ‘বিটা-ক্যারোটিন’ ইত্যাদি। বহুল ব্যবহূত এই সকল এন্টি-অক্সিডেন্ট হতেও বহুগুণে শক্তিশালী প্রাকৃতিক এন্টি-অক্সিডেন্ট হচ্ছে এসটাজেনথিন। বিভিন্ন ধরণের খাবারের উত্স যেমন: সামুদ্রিক স্যামন মাছ, চিংড়ি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে এসটাজেনথিন থাকে। হেমাটোকোসিস প্লোভায়াস
নামক শৈবাল থেকে এসটাজেনথিন বাণিজ্যিকভাবে সংগ্রহ করা হয়।
ফ্রী-রেডিক্যালকে নিস্ক্রিয় করার সময় সাধারণ এন্টি-অক্সিডেন্টের একসময় গাঠনিক পরিবর্তন ঘটে যার কারণে কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু এসটাজেনথিনের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ধরণের পরিবর্তন হয় না, ফলে এর কার্যকারীতা সবসময় অটুট থাকে। তাই ফ্রী-রেডিক্যালকে নিস্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে এসটাজেনথিন ভিটামিন ‘সি’ হতে ৬০০০ গুণ, ভিটামিন ‘ই’ হতে ১০০০ গুণ, ‘বিটা-ক্যারোটিন’ হতে ৪০ গুণ শক্তিশালী, যা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে ফ্রী-রেডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে পারে।
এসটাজেনথিন রক্ত সঞ্চালণ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে হূদপিন্ডের বহু ধরণের রোগ (যেমন উচ্চ রক্তচাপ) হতে মুক্তি দান করে। এছাড়াও এটি রক্তের উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএল-কে বাড়ানোর পাশাপাশি, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল- টিজি,
সিআরপি-সি (রিএ্যাকটিভ প্রোটিন) কেও নিয়ন্ত্রণ করে। এসটাজেনথিন স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও এর এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাগুণ খুব বেশী থাকার কারণে এটি বহু-মূত্র (ডায়াবেটিস) রোগীদের ইনসুলিন লেভেলকে বাড়ায়। এসটাজেনথিন সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির কারণে বয়স বৃদ্ধির প্রবণতা হতে সুরক্ষা প্রদানের পাশাপাশি একজিমা বা ডার্মাটাইটিস সমস্যায় খুবই কার্যকরী। এছাড়া যেসব লোক বহুদিন যাবত্ বিভিন্ন ধরণের রোগে (ক্যান্সার, আর্থ্রাইটিস, হূদরোগ-এ) ভুগছেন তাদের এসটাজেনথিন রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। বিষ্ময়কর এই এন্টি-অক্সিডেন্টটি এখন বাংলাদেশেও পাওয়া যাচ্ছে। একমাত্র এসটাজেন নামেই বহু পরিচিত। কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এসটাজেন দীর্ঘদিন সেবন করা যায়।

মোস্তাফিজ আর রহমান

আসসালামু আলাইকুম,, আমি মোস্তাফিজ, ডাক নাম উল্লাস । আপনি আমার এবাউট পড়ছেন এর মানে আপনি এই মুহুর্তে আমার প্রোফাইলে আছেন এবং তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আসলে আমি যখন থেকে ইন্টারনেট জগতের সাথে পরিচিত হয়েছি ঠিক তখন থেকেই অনলাইনে বিভিন্ন লেখকদের লেখা পড়তাম আর তাদের কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করার চেষ্টা করতাম । আমি ২০১২ তে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম , তারপর ওয়েবসাইট এবং সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর উপর কোর্স করে পড়াশুনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করতে থাকি । ব্লগিংএ খুব বেশি আকর্ষন থাকার কারনে ২০১৭ এর ৮ই অক্টোবর ”জনতা ব্লগ” এর প্রতিষ্ঠা করি। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি ব্লগ এ মানসম্মত কিছু লোখার জন্য, তাই পাঠকদেরে কাজে লাগবে সেই সমস্ত টপিক গুলোর উপরেই লেখার চেষ্টা করি । ”জনতা ব্লগ” এর অন্যান্য লেখকদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই তাদের মুল্যবান প্রকাশনা গুলোর জন্য । একটা ব্লগের সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ হলো সেই ব্লগ এর নিয়মিত যারা লেখক এবং পাঠক আছেন, তাহাদের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। তাই আপনাদের আবারও ধন্যবাদ জানাই ”জনতা ব্লগ” এর হাতে হাত রেখে পাশাপাশি চলার জন্য । আপনারা পাশে আছেন বলেই আমরা এ পর্যন্ত এগিয়ে আসতে পেরেছি ।

Related Posts