ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের এবং আর্জেন্টিনা যা অর্জন করেছে…



ব্রাজিল সাপোর্টার রা পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে তো একটু লাফালাফি করবেই । কারন এই পাঁচ বার কাপ নিতে গিয়ে কতবার যে ইতিহাস রচনা করতে হয়েছিল তা শুধু ব্রজিলিয়ান ভক্তরায় জানে । আর্জেন্টাইন ভক্তরা শুধু জানে ব্রাজিলের সাত গোল এর ইতিহাস, শূয়োর শুধু অন্যের বিষ্ঠাতেই হামাগুড়ি দিতে জানে ( মজা করে বললাম )।

সব কিছুর পরে একটা কথায় বলবো, ব্রাজিল ফুটবলে ইতিহাস রচনা করেছে, আর আর্জেন্টি রচনা করেছে চিটিং বাটপারি গল্পের। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত তিনটি ঘটনা বলি।

– ১৯৮৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে হাত দিয়ে গোল দেন ম্যারাডোনা। তিনি এর নাম দেন ( হ্যান্ড অফ গড )।

-ঠিক একই ভাবে ম্যারাডোনার উত্তরসূরি মেসিও হাত দিয়েই বলটাকে গোলপোস্টে ঠেলে দেন।

– ১৯৯০ সেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ম্যাচটার কথা হয়তো অনেকেই জানেন না। খেলার মাঝ সময়ে আর্জেন্টিনার পোদ্র ত্রগলিও আহত হলে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে, তখনই ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ব্রাংকো আর্জেন্টিনার ফিজিও মিগুয়েল ডি লরেঞ্জোর কাছ থেকে এক বোতল পানি নিয়ে পান করেছিলেন আর সেটার পরেই তার মাথা ঝিমঝিম করছিলো এবং তিনি অসুস্থতা বোধ করছিলেন!
আর সেই সুযোগেই ম্যারাডোনা বল নিয়ে ব্রাজিলের গোলপোষ্টের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগটা পেয়ে যায়। যেখানে পুরো সময় ধরেই মাঠে রাজত্ব করছিলো ব্রজিল, সেখানে ব্রাংকো অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের ডিফেন্সে ভাঙ্গন ধরে যায় এবং খেলার শেষ সময়েই ১-০ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।

এই ঘটনা আর্জেন্টিনা অস্বীকার করলেও ১৫ বছর পর ম্যারাডোনা নিজেই স্বীকার করেন যে ঐ পানিতে ঘুমে ওষুধ মেশানো হয়েছিল, এই ঘটনার স্বীকারোক্তি সারা বিশ্বে টনক নড়ায়। যারা গাজাখুরি ভাবতেছেন তারা একটু অনলাইনে সার্চ করেন।

যাহোক, হার জিত তো খেলাতে থাকবেই। তবু একটা কথা তো সৃষ্টির গোড়া থেকেই চলে আসছে তাইনা? কেও লাফালাফি করে নিজের অর্জন নিয়ে, আর কেও লাফালাফি করে অন্যর ক্ষতি দেখে।
ব্রজিল ৫টা কাপ নিয়ে লাফালাফি করছে আর আর্জেন্টিনার সাপোর্টাররা লাফালাফি করছে ব্রাজিলের ৭ গোল খাওয়া নিয়ে। এতে আর্জেন্টিনার সাপোর্টারদের কোন দোষ নেই, আপনারা রাগ করবেননা ব্রজিল ভক্তরা। কারন লাফালাফি করার জন্য ওদের তো আর ৫ টা কাপ নেই। যা আছে তাও চিটিং বাটপারি করে আদায় করে নেওয়া।

ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাস রচনা করে আর আর্জেন্টিনা রচনা করে হৈংসিকতা এবং চিটিং বাটপারির এর প্রমান তো হাতে কলমেই পাওয়া যায়, একটু ইন্টারনেট ঘাটেন।
১৯৯০ এর আগে ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টি তিনবার মুখোমুখি হয়। তার মধ্যে দুইবারই ব্রাজিল ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয় ১৯৭৪ ও ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে। এগুলোই ইতিহাস ভাই। ব্রাজিল ইতিহাস রচনা করতে করতেই এই পর্যন্ত এসেছে , ব্রজিল ভক্তরা এমনি এমনি লাফালাফি করে না, এর পেছনে ইতিহাস আছে। কোন চিটিং বাটপারি নেই।
আর হ্যাঁ, এখানে যা কিছু বলেছি তার একটাও আমার মনগড়া কথা না, ইতিহাসে যা আছে তাই তুলে ধরেছি। বিশ্বাসে দ্বিধা থাকলে ইতিহাস ঘাটুন।

মোস্তাফিজ আর রহমান

আসসালামু আলাইকুম,, আমি মোস্তাফিজ, ডাক নাম উল্লাস । আপনি আমার এবাউট পড়ছেন এর মানে আপনি এই মুহুর্তে আমার প্রোফাইলে আছেন এবং তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আসলে আমি যখন থেকে ইন্টারনেট জগতের সাথে পরিচিত হয়েছি ঠিক তখন থেকেই অনলাইনে বিভিন্ন লেখকদের লেখা পড়তাম আর তাদের কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করার চেষ্টা করতাম । আমি ২০১২ তে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম , তারপর ওয়েবসাইট এবং সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর উপর কোর্স করে পড়াশুনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করতে থাকি । ব্লগিংএ খুব বেশি আকর্ষন থাকার কারনে ২০১৭ এর ৮ই অক্টোবর ”জনতা ব্লগ” এর প্রতিষ্ঠা করি। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি ব্লগ এ মানসম্মত কিছু লোখার জন্য, তাই পাঠকদেরে কাজে লাগবে সেই সমস্ত টপিক গুলোর উপরেই লেখার চেষ্টা করি । ”জনতা ব্লগ” এর অন্যান্য লেখকদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই তাদের মুল্যবান প্রকাশনা গুলোর জন্য । একটা ব্লগের সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ হলো সেই ব্লগ এর নিয়মিত যারা লেখক এবং পাঠক আছেন, তাহাদের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। তাই আপনাদের আবারও ধন্যবাদ জানাই ”জনতা ব্লগ” এর হাতে হাত রেখে পাশাপাশি চলার জন্য । আপনারা পাশে আছেন বলেই আমরা এ পর্যন্ত এগিয়ে আসতে পেরেছি ।

Related Posts