ফেব্রুয়ারির সাথে সাথে ভাষার প্রতি ভালবাসাও কি শেষ!!



( সাবস্ক্রাইবার )

মার্চ 2, 2018

বাস্তবতা

11

1,405

জ্বী ভাষার মাস শেষ, এবার আরাম করে ইংরেজি বলা যাবে। না মানে ঘটা করে এই মাসটাতো বাংলাকে ভালবাসা হয়েছে খুব বেশী।
আচ্ছা একটা জিনিস খুব জানতে ইচ্ছে করে। হিন্দি আর ইংরেজিতে এমন কি আছে যা বাংলায় নেই?
হুম বাংলা কঠিন,অবশ্যই কঠিন। রক্ত দিয়ে আনা ভাষা সহজ হবে বলে আশাও করি না। এমনি এমনি তো আজ বাংলায় কথা বলার অধিকার পাইনি।
সালাম, রফিক,বরকত, শফিউরদের রক্তে অর্জিত ভাষা আর অনেকের কাছে অস্বস্তিকর লাগে। বিভিন্ন পার্টিতে,ক্লাবে কেউ ইংরেজিতে কথা না বললে বরই অসামাজিক মনে হয় তাকে আমাদের কাছে। আচ্ছা মায়ের ভাষা বলতে আমাদের এত লজ্জা কেন!

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মানে পৃথিবীর সব ভাষার প্রতি সম্মান দেখানো কিন্তু যেহেতু আমি বাঙালী তাই বাংলাকে আলাদা করে ভালবাসি। আমি বলছিনা আপনি ইংরেজি শিখবেন না! কিংবা ইংরেজিকে অসম্মান করবেন!! জ্ঞ্যান লাভের আশায় প্রত্যেক ভাষাই শিখুন সম্মান করুন কিন্তু সেটাকে ধ্যান বানিয়ে ফেলবেন না। আজ বিদেশী ভাষার ভিড়ে নিজের ভাষাটাও হারিয়ে ফেলছি। আমি কিংবা আপনি কেউই এখন আর ১০০ শতাংশ শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারিনা। আচ্ছা আমার মত আপনাদেরও কি কষ্ট লাগে?? নাকি বিন্দু মাত্র কষ্ট লাগেনা?
আচ্ছা কেন এত অসম্মান?,কেন হিন্দি আর ইংরেজি গানে বিভোর আমরা? আমাদের সংস্কৃতি কোন অংশে খারাপ? উত্তর পাইনি কখনো..
হিন্দি গান আপনার বেশ পছন্দ। ইংরেজি গান হলে তো কথাই নেই। আর বাংলা? ধুর বাংলা গান কেউ শোনে নাকি!!
আচ্ছা হিন্দি আর ইংরেজি সিনামা ভাল লাগে আর বাংলা সিনেমা গুণ নেই!! ধুর রিক্সাওয়ালারে দেখে বাংলা সিনেমা!!

আমি কোনো ভাষা বা সংস্কৃতিকে অসম্মান করছিনা। কিন্তু আপনারা যেভাবে অন্য সংস্কৃতিকে নিজেদের বুকে লালন করছেন, ভয় হচ্ছে মায়াম সভ্যতার মত বাংলাও নাকি একদিন হারিয়ে যায়।

আমরা নামে বাঙালি আর মনে প্রানে অন্য সংস্কৃতি লালন করি। ভাষার প্রতি সম্মানের উদ্দেশ্যে এখন আর কেউ শহীদ মিনারে যাইনা। যাই পাব্লিসিটি কিংবা সেল্ফি তোলার জন্য। আচ্ছা এখন যদি আমি শহীদ মিনারে কিংবা স্মৃতিসৌধে ফুল দেই বা শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য নিজ নিজ সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি তাহলে সমস্যা কোথায়?
তাহলে ঘটা করে একদিনের নাটক কেন? গণমাধ্যম কেন্দবিন্দুর জন্যে নাকি মুখবইতে দুটো সেল্ফি দেওয়ার জন্য। ২১শে ফেব্রুয়ারি অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ কিন্তু কজনই বা সেটা বোঝেন??
আহা ভাষার প্রতি কি দরদ আমাদের। গালি দেওয়ার সময় ঠিকই বাংলায় আর ভালবাসার সময় আমি তোমাকে ভালবাসি বলতে ঘৃণা লাগে তাই ইংরেজিটাই বেছে নেই।
আচ্ছা আমরা যারা চেষ্টা করি বাংলায় কথা বলতে আমাদের বাংলাটা কতটা শুদ্ধ? সালামটাও দেই “স্লাইকুম ” কিংবা “সামাইকুম” পুরোটা বলরে ৫ সেকেন্ড লাগে তাই ১ সেকেন্ডে কাজ সেরে ফেলি। বাহ!! সময়ের প্রতি কতটা যত্নশীল আমরা!!!
শুভ সকাল শেষ কবে বলেছিল মনে নেই, ‘গুড মর্নিং’ শুনতে শুনতে নিজেও ওদের মত হয়ে গেছি। শুদ্ধ করে বাংলা বললে কি আপনাত সময়ের খুব বেশী অপচয় হয়ে যাবে? নাকি বন্ধুমহলে ক্ষ্যত হয়ে যাবেন?
আজকাল মুখবইতে বিভিন্ন ছবিতে কমেন্ট দেখি
“আপনাকে অস্থির লাগছে”
ভাল করে ছবিটা দেখলাম, নাহ! আমাকে তো যথেষ্ট শান্তই লাগছে অস্থির তো লাগছে না।
আরেকজন লিখল “আপনাকে জঘন্য সুন্দর লাগছে”
জঘন্য আবার সুন্দর!!!
ভাষার এরূপ বহুরূপী ব্যবহার শুনেছিলাম, দেখেও ফেললাম। বাংলা ভাষার এমন উন্নতি দেখে মুচকি হাসি আছে শুধু।

এবারে ফেব্রুয়ারিতে “কোকাকোলা” ‘নিখোঁজ শব্দ ” খুঁজে বের করার একটা ক্যাম্পেইন করে। ভালই লাগল,কিন্তু সমালোচনাও হল
“বিজনেস পলিসি,ধান্ধামি,নাটক শুরু করে দিছে,ভাষার প্রতি মিথ্যা ভালবাসা” আরো কত কিছু। হ্যা এটা তাদের ব্যবসায়ী চিন্তাধারা কিন্তু আপনি সেটায় মনোনিবেশ না করে যে শব্দগুলো তারা খুঁজার জন্য দিয়েছে সেগুলো খুঁজলে আরো লাভবান হতেন।
কি আর করবেন, বাঙালিতো!! বিনাপয়সার উপদেশ দিতে আমরা সবার চেয়ে এগিয়ে।
বাংলা নামমাত্রই আমাদের ভাষা,সরকারী অফিসগুলোতেও ইংরেজির ছাপ আসছে,আসছে আমাদের কথা বলায়, সরি আর থ্যাংকিউ মাঝখানে পরে দুঃখিত আর ধন্যবাদ হারিয়ে গেছে। বিদেশী ভাষা জানুন,শিখুন,বোঝবার চেষ্টা করুন,তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুন কিন্তু মনের মধ্যে বাংলাকে আর বাংলার সংস্কৃতিকে লালন করেন। একটা লাল সবুজ আর এই মধুর ভাষা এমনি এমনি আসেনি।
ভাল থাকুক সকল মাতৃভাষা,সম্মান পাক সকল ভাষা, আর বাঙালীর মুখে শুদ্ধ বাংলার ব্যাবহার বাড়ুক।

আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে,করি বাংলায় হাহাকার,
আমি সব বুঝে শুনে ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার…

উপরের গানটা শোনেনি এমন মানুষ কম হলেও মর্মার্থ বোঝেনি এমন মানুষ অসংখ্য। তাই তো দিনরাত বিদেশীভাষা আওড়াই আমরা। ঘটা করে দিবস পালনে ব্যস্ত,অনেকেই আবার ৩০ লাখ ভাষা শহীদের স্মরণ করেন। প্রতিনিয়ত নিজেদের ইতিহাসকে নিজেরাই তাচ্ছিল্য করছি,বিশ্বের কাছে হাসির কারণ বানিয়ে ফেলছি।
বিদেশীরা বাংলার মর্ম বোঝে,কিন্তু আমরা বুঝিনা। নিজের ভাষাকে নিজেরা ছোট করছি।
এই লজ্জা কোথায় রাখি…

Related Posts