সন্তুষ্টি খোজার পথই জীবন



( সাবস্ক্রাইবার )

ফেব্রুয়ারী 19, 2018

জীবন যাপন

9

5,002

জীবন মূলত কেমন?

আসলে এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আপেক্ষিক। স্থান,কাল,পাত্র ভেদে এর উত্তর ভিন্ন হয়ে যায়। কারো কাছে জীবন সোজা আবার কারো কাছে জীবন অনেক কঠিন। আবার আমার মত যেসব মানুষ আছেন তাদের কাছে জীবনটা অন্যরকম। বর্তমান বাংলাদেশে আয়ু হিসেব করলে একট মানুষ কম করে হলেও ৬০-৬৫ বছর বেচে থাকে বাকি হায়াত-মউত সৃষ্টিকর্তার হাতে। এই ৬০-৬৫ বছরের জীবনে মানুষের অর্জন-ত্যাগ মিলিয়ে মানুষ জীবনের একটা সংজ্ঞা দাড় করায়। যেমন, আমার কাছে জীবনটা হচ্ছে উপভোগের যায়গা,কারো কাছে কষ্টের ভান্ডার আবার কারো কাছে জীবন মানে অনাবিল সুখ। অনেক ধরণের মানুষের সাথে চলা ফেরার কারণে অনেক ধরণের মতবাদ শুনেছি,অনেক সংজ্ঞা শুনেছি কিন্তু কখনই পরিপোক্ত সংজ্ঞা পাইনি বললেই চলে। কারণ কেউ যখন কিছু বলে তখন সেটাতে তার একান্ত মতামত জড়িত থাকে। যেমন আমি এতকিছু বলছি এগুলো একান্ত আমার মত,আপনি মানতে বাধ্য না তবে হ্যা যদি তা একটা নিরপেক্ষ দিক থেকে বলা হয় যুক্তিসহ, তাহলে অবশ্যই তা মানা যায়। এখনো কোনো যুক্তিযুক্ত সংজ্ঞা পাইনি তাই জীবনের মানে আমার এখনো বোঝা এখনো বাকী। তবে হ্যা, অনেক মতাদর্শই ভাল লেগেছে।

IMG-20180216-WA0003-01.jpeg

ছোট বেলায় একটা ইংলিশ প্রবাদ পড়েছিলাম Life is Not a Bed of Roses””।
জীবন মানে ফুলের বিছানা নয়,জীবনে রয়েছে কাটার আঘাত। – এই সকল কথাবার্তা গুলো আসলে মানুষকে খুব ডিমোটিভেট করে। শিশুকালের মত মোক্ষম যায়গাগুলোতেই যদি এভাবে নিরুৎসাহিত করা হয় তাহলে বড় হয়ে এমনিতেই গুটি সুটি মেরে বসে থাকবে। যাইহোক এবার নিজের মতামতে আসি নাহয়। তার আগে বলে নেই আমার জীবনে আমি খুবই সুখি মানুষ, বলা যায় ৯৫% সন্তুষ্ট।
১৯৯৯ এ আমার আম্মা মারা যান,বয়স তখন আমার সবে মাত্র দুই কি আড়াই। স্মৃতি মনে নাই এটুকুই জানি। স্বাভাবিক মৃত্যু না হয়ায় আমার নানা আমাকে নিয়ে আসেন তার কাছে। বাবা বছর দুইয়েকের মধ্যেই আবার বিয়ে করেন। এদিকে আমিও নিজের মত করে বড় হতে থাকি। পড়ালিখায় মোটামুটি ভাল না হলেও নানার ইচ্ছায় বৃত্তি দেই ক্লাস ফাইভে,সে ২০০৬ এর কথা। ডামিসদের যা হয় আমারও তাই, বৃত্তি পাইনি কিন্তু নানা শান্ত হলেন না এইটে আবার দিতে হবে বলে দিলেন। কিন্তু ভাগ্য উনাকে ততদিন সময় দেইনি, আমি এইটে উঠার কিছুদিন পরই নানা মারা যান। জগৎতা ছোট হয়ে যায়। নানিকেই ঘিরেই এখন সব। মামা-খালারা ছায়ার মত ছিল আর সবার ঊর্ধ্বে নানি। এরপর এসএসসি -এইচএসসিতে সায়েন্স নিয়ে পাশ করার পর এখন সাংবাদিকতা পড়ছি। এর মধ্যে বাবার সাথে যোগাযোগ হয়নি যা কয়েকবার হয়েছে সেগুলো সুখকর ছিল না। ভার্সিটি উঠার পর মামাদের ছায়াটা সরে গেলেও খালারা ছিলেন এখনো আছেন।এর মাঝে প্রেম-ভালবাসা নিয়েও ঝামেলায় ছিলাম। জীবনটা ত্যানা-ফাটা ছাড়া কিছুই মনে হইত না। তবে জীবনে পরিবর্তন আসে।
সাংবাদিকতা পড়ার সুবাদে কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর উদ্দেশ্যের আমি মোটামুটি সব পেশা-শ্রেনীর মানুষের সাথে কথা বলতাম। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে যখন ভার্সিটি যাচ্ছিলাম তখন এক রিক্সাওয়ালাকে দেখে খুব অবাক হই। খুব আনন্দের সাথে রিক্সা চালাচ্ছেন, ভাবলাম কথা বলা উচিৎ। যেই ভাবা সেই কাজ, গেলাম তার কাছে। একে একে জানলাম তার বাড়ি সন্দীপ, বাবা-মা মারা গেছে ২ বছর হল, ভাঙোনে ঘরবাড়ী নদীতে গেছে,তাই বউ বাচ্চা নিয়ে এখানে,থাকেন ওয়াবদা কলোনিতে। প্রায় ১ঘন্টা চায়ের টং-এ আড্ডা দেয়া শেষে এটুকুই বললাম “আপনার জীবন অনেক কষ্টের মামা”। প্রত্যুত্তরে উনি যা বললেন সেই একটা কথায় আমার জীবন ঘুরে গেল। আমি শুদ্ধ ভাষায় লিখলাম বোঝার সুবিধার্থে
“মামা আমি ভালই আছি, কষ্ট-ফষ্ট কিচ্ছুনা।আল্লাহ একদিক দিয়া নিছে আরেকদিন দিয়ে দিবে। আমি শান্তিতে আছি। সারাটাদিন যদি পূর্বের কাজের জন্য মন খারাপ করে রাখি থাহলে ভাল আর থাকা হবে না। দিন আনি দিন খাই, আল্লাহ ইবাদত করি অনেক সুখেই আছি বউ বাইচ্চা নিয়া”
শুনে একটাই কথা আসল মাথায়, “সন্তুষ্টি “। জীবনের সুখি থাকার একমাত্র হাতিয়ার। এরপর থেকে আমি আসলে এটাই বিশ্বাস করি যে জীবন মানে জি বাংলা না,জীবন মানে সন্তুষ্টি খোজার পথ।
আমাকে সৃষ্টিকর্তা যা-ই দিয়েছেন আমি তাতেই খুশী। তিনি কষ্ট দেন কারণ তিনিই সুখ দেবেন। জীবনে অনেক কিছুই হবে তাই বলে জীবন মানে যন্ত্রণা, জীবন মানে কষ্ট এসব না বলে সেসব সুখকর স্মৃতির কথা ভাবুন যেগুলোর জন্য একবার হলেও মনে হয়েছে জীবন অনেক সুন্দর। কারণ সুখে থাকাটাই আসল,কেন শুধু শুধু ঘটে যাওয়া অতীত গুলোর কারণে নিজের ভবিষ্যৎ খারাপ করবেন। নিজেকে নিজের জন্য গড়াই ভাল। নিজের জন্যই বেচে থাকা। স্বার্থপরতা নয়, নিজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াই ভাল। পরিশেষে কিছু ভালো লাগা উক্তি দিয়েই শেষ করি, হুমায়ুন ফরিদীর স্যারের মতে,
“জীবন মানে ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া!”- আসলেই, একদিন মরতেই হবে তাই এখন বেচে থাকাটাই মোক্ষম। মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় হাসি খুশী ভাবে এগিয়ে যাইয়াই ভাল।
জীবনে কষ্ট থাকবে,সুখও থাকবে। জীবনটা আপনার,আপনি কি করবেন আপনি ভাল বুঝবেন। আমার মতের সাথে আপনার মত মিলবে না,মিলতে বলছিওনা,শুধু এটুকুই বলব সন্তুষ্ট থাকুন, সৃষ্টিকর্তাকে মানুন,সুখী থাকুন।
নীশু নাথের মতে,
“জীবন মানে একটি সমাধান প্রত্যাশী অংক।সবাই সমাধান এর জন্য অংক কষে যে যার মত। কেউ সরল অংক কষে,কেউ জটিল।”

এইবার আপনি ভাবুন,ইচ্ছে করে জটিল অঙ্ক করবেন নাকি তাকে সরল অঙ্কে নিয়ে আসবেন?

Related Posts