স্মার্টফোন রিভিউ – ২০১৮ এর চারটি সেরা স্মার্টফোন ।



( মডারেটর )

জানুয়ারী 10, 2018

স্মার্টফোন রিভিউ

3

1,083

প্রতিটি খাতের মতো করে প্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন চলছে দারুন গতিতে। আর এই নতুন বছরকে সামনে রেখে প্রযুক্তি বাজারে আসছে বিশাল পরিবর্তন।

বিশেষ করে নিত্য ব্যাবহার করা স্মার্টফোনের কথাতো না বললেই নয়। ২০১৭ তে স্মার্টফোনের বাজারে রাজত্ব করেছে apple এর iphone, Samsung, google pixel,  OnePlus এছাড়াও আরো নামী দামি ব্রান্ড।

ঠিক সেই সফলতা কাজে লাগিয়ে নতুন বছরে তাদের সুনাম এবং শীর্ষ স্থান ধরে রাখতে অনেক ব্রান্ড ই বাজারে আনতে যাচ্ছে অসাধারন সব স্মার্টফোন।

চলুন যেনে নেয়া যাক এবাবের ২০১৮ তে স্মার্টফোনের বাজারে রাজত্ব করবে কোন ফোনগুলি।

Apple iPhone X– Best Smartphone 2018

 

dji-iphone-x.jpg

কিছুদিন আগে iPhone X অর্থাৎ আইফোন ১০ উন্মোচন করা হয়েছে। যদিও এটি এখনো মার্কেটে আসেনি, তবুও প্রযুক্তি বিশ্বে চলছে এটা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা। আইফোন ১০ এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচার হল ফেস আইডি বা ব্যবহারকারীর চেহারা শনাক্ত করে মোবাইল আনলক করার প্রযুক্তি। এই মোবাইলের সকল ফিচার এপল স্পেশাল ইভেন্টের কি-নোট এ বলা হয় নি। তেমনি ফেস আইডির অজানা তিনটি ফিচার সম্পর্কে বলা হয়েছে এপলের ওয়েবসাইটে।

আপনি হয়তো জানেন এপলের এই নতুন ফেস আইডি আইফোন ১০ মোবাইল আনলক এবং এপল পে দিয়ে কেনাকাটা করার জন্য ব্যবহৃত হবে। তাছাড়া এই ফেস আইডি সেন্সর পরট্রেইট মুডে দারুণ সেলফি তুলতে ব্যবহার করা যাবে এবং নতুন এনিমোজি ফিচার এ ব্যবহৃত হবে। কিন্তু আপনি কি জানেন ফেস আইডি এই কাজগুলি ছাড়াও আরো বেশকিছু কাজ করে?

আপনি যখন আইফোন ১০ এর দিকে তাকাবেন তখন ফেস আইডির মাধ্যমে সাথে সাথে মোবাইল বুঝে যাবে যে আপনি মোবাইলের দিকে তাকিয়েছেন। এই প্রযুক্তির কারণে আইফোন ১০ এ দারুণকিছু ফিচার পাওয়া যাবে যা নিচে আলোচনা করা হল।

১. নোটিফিকেশন দেখাবেঃ আপনি আইফোন ১০ এর দিকে তাকানোর সাথে সাথে স্ক্রিনে মোবাইলের নোটিফিকেশন হাজির হবে। ফলে আপনি মোবাইলে স্পর্শ না করেই নোটিফিকেশন চেক করে নিতে পারবেন। আর হ্যাঁ শুধুমাত্র আপনি তাকালেই নোটিফিকেশন আসবে, অন্য কেউ মোবাইলের দিকে তাকালে ফেস আইডি সেটা অগ্রাহ্য করবে।

২. ডিসপ্লে চালু থাকবেঃ আপনি যখন আইফোন ১০ এ কিছু পড়ছেন, তখন আইফোন ১০ এর ডিসপ্লে লাইট বন্ধ হবে না। এই প্রযুক্তি মোবাইল জগতে নতুন না। এর আগে স্যামসাং S3 তে এই প্রযুক্তি দেখা গিয়েছিলো, তারা এটাকে Smart Stay নাম দিয়েছিল।

৩. ভলিউম কমাবেঃ আপনি যখন মোবাইলের দিকে তাকিয়ে আছেন, তখন আইফোন ১০ এর অ্যালার্ম এবং রিঙ্গার ভলিউম কমে যাবে। কারণ আপনি মোবাইল ব্যবহার করছেন, সুতরাং কম ভলিউমে রিং হলেও আপনি শুনতে পাবেন।

ফিচারগুলি দারুণ হলেও ভাবনার বিষয় হচ্ছে, এই ফিচারগুলি আবার আইফোন ১০ এর ব্যাটারিতে প্রভাব ফেলবে নাতো? এই ফিচারগুলিকে একটিভ করতে ফেস আইডিকে সারাক্ষণ চালু থাকতে হবে, আর সেখত্রে ব্যাটারি প্রচুর ড্রেইন হওয়ারই কথা। এই প্রশ্নের উত্তর আইফোন ১০ হাতে পাওয়ার পরই মিলবে।

 

Samsung Galaxy S8 – Best Android Smartphone 2018

Samsung+Galaxy+S8+Release+date,+price,+specs+and+other+rumours+about+the+next+generation+smartphone.jpg

 

একটা ভালো ও খারাপ মানের ফোনের চেহারা দেখলেই তার সম্পর্কে অনেকটা ধারণা মেলে। তারপরও ডিজাইন বিষয়ে যাদের নাক উঁচু, তাদের কাছে অনেক ভালো ও সুন্দর ফোনও সমালোচনার শিকার হয়। তবে এদের শতভাগ সন্তুষ্ট করেছে স্যামসাং গ্যালাক্সির ফ্ল্যাগশিপ। তারা কিন্তু গ্যালাক্সি এস৮ প্লাসকে নিয়েও দারুণ খুশি। 

এস৮ এর সিরিজের ইনফিনিটি ডিসপ্লে সবাইকে সত্যিকার অর্থেই তুষ্ট করেছে। এস৮ প্লাসে দেওয়া হয়েছে ৬.২ ইঞ্চির ডুয়াল-কার্ভড কিউএইচডি সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে। চারদিকের ফ্রেমের একেবারে শেষ অবধি বিস্তৃত এর পর্দা। ফ্রেম আদৌ আছে নাকি, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হবে। 

এটাকে স্যামসাংয়ের এযাবৎকালের সেরা ফোন বলা হচ্ছে। পেছনে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরায় সেরা মানের ছবি ওঠে। এতে যোগ হয়েছে ডুয়াল পিক্সেল প্রযুক্তি। সামনের ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরায় পরিষ্কার, ঝকঝকে আর সূক্ষ্ম ছবি ওঠে। অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ নুগেটে চলে এ ফোন। কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসরে যোগ হয়েছে। অভ্যন্তরে ৬৪ জিবি স্টোরেজ। র‍্যাম থাকছে ৪ জিবি। ৩৫০০এমএএইচ শক্তির ব্যাটারি কম মনে হলেও দারুণ সেবা দেবে। এটি ধুলা ও পানি প্রতিরোধী এক মডেল যা আইপি৬৮ সার্টিফিকেট লাভ করেছে।  

গ্যালাক্সি এস৮ প্লাস নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতই এর সম্পর্কে ধারণা দেয়। ফোনের কার্নিশগুলো মসৃণভাবে মেশানো হয়েছে। এস৮ প্লাসের ডিজাইন যেন এক শিল্প। ধাতু আর কাচের এক শিল্পকর্ম। এটাকে চোখের সামনে ধরলেই ভবিষ্যতের কোনো প্রযুক্তিযন্ত্র বলেই মনে হবে। অভিজাত তো বটেই। ফোনটি চালু করলেই বোঝা যায়, এর শার্পনেস বিস্ময়কর। বিন্দুমাত্র ঘোলা বা পিক্সেলের তারতম্য চোখে পড়বে না। 

এজ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপকে নিজের পছন্দ ও সুবিধামতো ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে শর্টকাট ব্যবহারের দারুণ উপায় এজ ডিসপ্লে। এসব অবশ্য নতুন করে বলার কিছু নেই। স্যামসাং সত্যিকার অর্থেই তার গ্যালাক্সি নোট ৭ এর ব্যর্থতা ভুলিয়ে দিতে পারবে এই ফোনটি দিয়ে। প্রতিটি ক্ষেত্রে এটা এক অসাধারণ ফোন।
সূত্র : ইন্টারনেট 

Google Pixel Phone

pixel-event.png

স্মার্টফোনের দুনিয়ায় গুগলের নতুন ফোন পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সএল সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। বলা হচ্ছে, নিঃসন্দেহে আইফোন ৮ এবং আইফোন ৮ প্লাসকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম গুগলের এই দুটি স্মার্টফোন।গুগল আগে যে পিক্সেল সিরিজ এনেছে, তার থেকে কিছু আপডেট দিয়ে বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের নতুন দুই সংস্করণ। তবে তেমনটা আলোচনা হয়নি আইফোনের মতো।

এদিকে প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, গুগলের নুতন দুটি ফোন পারফরমেন্স বা ক্যামেরা বা অন্যান্য স্পেসিফিকেশনের দিক দিয়ে তা অ্যাপলকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। কারণ, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে যে ফোনগুলো বাজারে আসে, তাদের মধ্যে পিক্সেলের চেয়ে ভালো মানের ফোন আর নেই। গুণগত বিচারে আইফোন ৮ বা আইফোন ৮ প্লাস তো বটেই, আইফোন এক্স-কেও টেক্কা দেবে গুগল।

গুগলের পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সএল ফোনের ক্যামেরা, পর্দা আর সফটওয়্যার অংশকে আরো অনেক বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে। যদিও আগের পিক্সেল এবং পিক্সেল এক্সএল-এর সঙ্গে নতুন পিক্সেল ২ বা পিক্সেল ২ এক্সএল এর খুব বেশি পার্থক্য নেই। তবুও উন্নত হয়েছে অনেক। বিশেষ করে পর্দা আর ব্যাটারির শক্তিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে নতুনটাতে ৩.৫এমএম হেডফোন জ্যাক আর দেওয়া হয়নি। ইউএসবি-সি পোর্টেই চার্জিং এবং গান দুটির কাজই চলবে।    

পিক্সেল ২ এসেছে ৫ ইঞ্চি সিনেম্যাটিক ১২৭এমএম ফুল এইচডি ডিসপ্লে নিয়ে। আর পিক্সেল ২এক্সএল-এ মিলবে ৬ ইঞ্চি কিউএইচডি পি-ওলেড ডিসপ্লে। এগুলোর নিরাপত্তা দেবে থ্রিডি কর্নিং গোরিলা গ্লাস। দুটিতেই অ্যান্ড্রয়েড ওরিও ৮.০.০ দেওয়া হয়েছে। আছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ এসওসি চিপসেট এবং ৪ জিবি র‍্যাম। পিক্সেল ২-তে ২৭০০এমএএইচ ব্যাটারি দেওয়া হলেও পিক্সেল ২ এক্সএল-এ দেওয়া হয়েছে ৩৫২০এমএএইচ ব্যাটারি।     

দুটি ফোনেই পেছনে ১২.২ মেগাপিক্সেল এফ/১.৮ অ্যাপারচার ক্যামেরা যুক্ত হয়েছে। আর সমানে ৮ মেগাপিক্সেল এফ/২.৪ অ্যাপারচার ক্যামেরা। এগুলো অসাধারণ ছবি তুলতে পারে। অথচ পিক্সেলের দাম কিন্তু আইফোনের প্রায় কাছাকাছি। ৬৪৯-৮৪৯ ডলারের মধ্যে রয়েছে পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ প্লাসের দাম। 

OnePlus 3T

one_36182.jpg

ওয়ান প্লাস ৩ (One Plus 3) রিভিউ দেয়ার আগে একটি কথা না বললেই নয়, সেটি হল  এর   নজরকাড়া ডিজাইন, দ্রুত চার্জিং অপশন , মোবাইল পেমেন্টের জন্য এনএফসি ফাংসান, যা শুধু প্রিমিয়াম ডিভাইস স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ ও এইচটিসি ১০ এমনকি আইফোন ৬এস এর সঙ্গে লড়াই করে বাজারে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে।

 

 ডিসপ্লে ও ব্যাটারি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি, মেমরি কার্ডে স্লট না থাকা কিংবা অধিক চাপে গরম হওয়াসহ কিছু বিষয় ছাড়া যারা দীর্ঘস্থায়ীভাবে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারে আগ্রহী তাদের জন্য এ ডিভাইস একটি ভালো অপশন হতে পারে।

২০১৪ সালে ওয়ান প্লাস ওয়ান One Plus One মডেল দিয়েই ওয়ান প্লাস স্মার্টফোন কোম্পানির মার্কেটে প্রবেশ । ওয়ান প্লাস ওয়ান এর আকর্ষণীয় সব ফিচারের অবদানে শুরু থেকেই বেশ দ্রুত এটি অনেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মন জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছে ।

যদিও ওয়ান প্লাস ২ One Plus 2  এবং ওয়ান প্লাস এক্স One Plus X  স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মাঝে তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি, তারপরেও ফোনগুলির ফিচার ছিলো তুলনামূলক ভালো । যাইহোক , ওয়ান প্লাস কোম্পানির নতুন ওয়ান প্লাস ৩ আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে , কারণ আকর্ষণীয় নতুন এই ফোনের শুরুতেই পাচ্ছেন স্লিক মেটাল ডিজাইন প্রিমিয়াম লুক ফিনিশিং ।

ওয়ান প্লাস ৩ ফোনটিতে থাকছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর ৷ ৫.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের ফ্ল্যাগশিপটিতে থাকবে ফুল এইচডি ডিসপ্লে। পাশাপাশি থাকবে ৬ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ ৷ থাকবে ১৬ মেগাপিক্সসল রিয়ার ক্যামেরা ও ৮ মেগাপিক্সসল ফ্রন্ট ক্যামেরা ৷

সহজ ইউজার ইন্টারফেস এবং ফাস্ট ৬ জিবি র‍্যাম সম্পন্ন কাজের গতি ইত্যাদি চলুন তবে দেখে নেই নতুন ওয়ান প্লাস ৩ One Plus 3  সম্পর্কে সকল তথ্য ও রিভিউ।

ভালো দিকঃ

স্মার্টফোনটিতে ডুয়াল কোর ২.১৫ ও ১.৬  গিগাহার্জ কায়রো কোয়ালকম স্নাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে, যা উচ্চগতির।

ডিভাইসটিতে রয়েছে ৬ জিবি ডুয়াল চ্যানেল র‍্যাম, যা ডিডিআর৪ ফোনের তুলনায় অধিক দ্রুত ডেটা প্রসেস করতে পারদর্শী।

নজরকাড়া সুদৃশ্য ডিজাইন

চমৎকার ক্যামেরা

ফাস্ট চার্জিং সুবিধা

খারাপ দিকঃ

মেটালিক ফিনিশিংয়ের জন্য অনেক সময় অতিরিক্ত প্রেশারের ক্ষেত্রে ডিভাইসটি কিছুটা গরম হয়ে পড়ে।

এইচ ডি এমোলেড ডিসপ্লেটির পিক্সেল ঘনত্ব ৪০১।

এক্সটারনাল মেমরি ব্যবহার করার সুযোগ থাকছে না

ডিসপ্লে কালার ন্যাচারাল দেখায় না

নানান জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের তথ্যমতে উপরের উল্লেখ্যিত ফোনগুলো রাজত্ব করবে পুরো ২০১৮ জুড়ে।

কেমন ছিলো পৃথিবীর সর্বপ্রথম স্মার্টফোন “সিমন”? 

ইতিমধ্যে অনেক স্মার্টফোনের ফিচার লিক হয়েছে আবার কিছু কম্পানি অফিসিয়ালি তাদের ফোনগুলির ফিচার ঘোষনা করেছে।

Related Posts