লস্কর প্রশ্নে নিশ্চুপ বন্দর



( মডারেটর )

নভেম্বর 20, 2017

গুরুত্বপূর্ন সংবাদ

5

513

মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন

গত বৃহস্পতিবার থেকেই চট্টগ্রামবাসীর মুখে মুখে ফিরছে লস্কর শব্দটি। জাহাজের রশি বাধা ও পাহারা দেয়ার কাজে যারা নিয়োজিত থাকেন তারাই লস্কর। সবার প্রশ্ন কতজন চট্টগ্রামবাসী বন্দরের লস্কর পদে চাকরীর সুযোগ পেয়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে চলছে নানা মন্তব্য। যাদের দায়িত্ব লস্করের নিয়োগ দেয়ার, তারাই এ ব্যাপারে মুখ কোন তথ্য দিচ্ছেন না। ফলে বন্দরের কার্যক্রমে সন্দেহের দানা বেধেছে সাধারণ মানুষের মনে।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চতুর্থ শ্রেণির ‘লস্কর’ পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ৮৫ জনকে চূড়ান্ত করে ফল প্রকাশ করে। অভিযোগ উঠে ‘চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়াদের বেশিরভাগই ‘মাদারীপুর’ জেলার বাসিন্দা। উল্লেখ্য নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের বাড়িও মাদারীপুর জেলায়। সাধারন মানুষ মনে করেন ‘মন্ত্রীর সুপারিশেই ‘মাদারীপুর’ জেলার থেকে সর্বোচ্চ লোককে নিয়োগ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বন্দরের বিভিন্ন শাখাতে যোগাযোগ করলে ও কেউ সুনিদিষ্টভাবে কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য ( পরিকল্পনা ও প্রশাসন) মোঃ জাফর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। পরিচালক (প্রশাসন) সাদেকা বেগমকে বারে বারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ও তিনি রিসিভ করেন নি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে ও কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।

সবশেষে সচিব মোঃ ওমর ফারুকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সিটিজি টাইমসকে বলেন দৈনিক, ‘আমি এব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানি না। তবে নৌ মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন বৃহত্তর চট্টগ্রামে লস্কর পদে ২৮ জনের চাকুরী হয়েছে। এই ব্যাপারে প্রশাসন বিভাগ ভাল বলতে পারবেন।’ কোন জেলা থেকে কতজন লোক লস্কর পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন এবং মাদারীপুর থেকে কতজন নিয়োগ পেয়েছেন জানতে চাইলে সচিব মোঃ ওমর ফারুক অজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ (সিবিএ) যুগ্ম সম্পাদক ১ ফটিক ও যুগ্ম সম্পাদক আবদুস ছাদেক সিটিজি টাইমসকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ১৯৮৮ সালের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মচারীদের জন্য ৪০ শতাংশ পোষ্য কোটা ছিল। এই ধারা গত ৯/১১ আগ পর্যন্ত চালু থাকলে ও পরবর্তীতে সেনা সমর্থিত সরকার এবং আওয়ামীলীগ এই সিদ্ধান্ত আর মানেননি।

তারা আরো জানান, লস্কর পদে পোষ্য কোটায় কম করে হলে ও ৩ হাজারের মতো অবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ৫ শতাংশ অর্থ্যাৎ ৪ জনের চাকুরী হয়েছে। তাদের দাবী বন্দর কর্তৃপক্ষ বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মেনে পোষ্যদের জন্য ৪০ শতাংশ কোটা সংরক্ষক করুক।

উল্লেখ্য চট্টগ্রাম বন্দর সুত্রে জানা যায়,, গত ১৫ মে লিখিত মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে তিন দফায় প্রার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ( মৌখিক) নেয়া হয়। গত ১ জুন থেকে ১৮ জুন এবং ৪ ও ২০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮৫ জনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণদের পরবর্তী সাত কর্মদিবসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিচালকের (প্রশাসন) দপ্তরে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।

উলেখ্য এবার চট্টগ্রাম বন্দরের কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা ঢাকায় আয়োজন করা নিয়েও নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে । অবশ্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই চট্টগ্রামের পরিবর্তে ঢাকায় পরীক্ষা নেয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। ঢাকায় পরীক্ষা নেয়াকে কেন্দ্র করে সাধারন মানুষ ছাড়া ও সাবেক সিটি মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন।

সেলিম

লেখক

Related Posts