মেধা: জন্মগত,না অর্জিত?



( মডারেটর )

নভেম্বর 22, 2017

বই সমূহ

5

872

অধ্যাপক মো: শহীদুল্লাহ

মেধা: জন্মগত,না অর্জিত?

 

চার বন্ধু একই স্কুলে লেখাপড়া করে।তাদের বার্ষিক পরিক্ষার ফল বের হল।দু’বন্ধু ভাল রেজাল্ট করল,বাকি দু’জন ফেল করল।জরিপে দেখা গেল,পাশ করা দু’জনের মধ্যে একজনের মা-বাবা কেউই মেধাবী নই;কিন্তু সে মেধাবী।আবার কৃতকার্য হওঢা দ্বিতীয় জনের মা-বাবা উভইয়ে মেধাবী।বন্ধুটি নিজেও মেধাবী।এবার ফেল করা ছাত্রদের কথা বলা যাক।তাদের একজনের মা-বাবা কেউই মেধাবী নই,সে নিজেও নই।অন্য ছাত্রটির মা-বাবা উভয়েই মেধাবী, কিন্তু সে নই। এমন সব ঘটনা তোমরা বাস্তব জীবনে প্রায়ই লক্ষ করে থাকবে । এখন প্রশ্ন- কেন এমন হয়? মেধা কি জন্মগত না অর্জিত? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আগে মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কিছু জানা প্রয়োজন।

ব্যক্তিত্ব হলে ব্যক্তির সেই সত্তা যা ব্যক্তির আচরণকে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য, সহজাত প্রবৃত্তি,মানসিক প্রবণতা,ব্যক্তির আশা,কামনা,অভ্যাস,অভিজ্ঞতা,কল্পনাশক্তি,বুদ্ধি,দোষ-গুণ –সবকিছুর সংমিশ্রনই হল ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব।আমরা কোন ব্যক্তির কথাবার্তা,চিঠি,নাম,হাতের লেখা কাপড়-চোপড়,চেহারা প্রভৃতি দেখে বা শুনে তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা নিতে পারি।
ব্যক্তিত্বহীন বলতে কেউ নেই। কম বেশি সকল মানুষেরই ব্যক্তিত্ব আছে। আবার কেউ কেউ বলেন —- লোকটি খুবই ব্যক্তিত্ববান। এটাও যুক্তিসঙ্গত নয়। মেধার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সকল মানুষেরই কম-বেশি মেধা রয়েছে।
মেধা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্নভাবে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।কেউ বলেছেন ব্যাপারটি জন্মগত,আবার কেউ বলেছেন অর্জিত।মনোবিদ ফ্রয়েড একে বংশগত ব্যাপার বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এও বলেছেন মেধাবিকাশের জন্য বংশগত ও পরিবেশগত দুটো উপাদানই প্রয়োজন। একজন কলামিস্টের কথাই ধরো। তিনি জন্মগতভাবেই লেখক হন না।অনেক জ্ঞান অর্জন,অধ্যয়ন ও লেখালেখির এক পর্যায়ে অক্লান্ত চেষ্টার পর তিনি কলামিস্টের যোগ্যতা অর্জন করেন।তার মানে এটি তার অর্জিত মেধা।অন্যদিকে সেই মেধাবী হাসিখূশি,চঞ্চলমনা,মিশুক মেয়েটির কথাই চিন্তা কর যার মা-বাবা ভাই বোন সবাই মেধাবী।মেয়টিও অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী; বর্তমানে নিজেও প্রতিষ্ঠিত। এ অবস্থায় আমরা বলে থাকি,বংশগতভাবেই মেয়েটি মেধাবী। তাহলে বোঝা গেল কখন মেধা জন্মগত,আর কখন মেধা অর্জিত।
মানুষের মধ্যে দু ধরনের উপাধান লক্ষ করা যায়—-একটি ইতিবাচক এবং অপরটি নেতিবাচক।উভয় উপাদানই বংশগত ও পরিবেশগত প্রভাবে সৃষ্ট।মানুষের ইতিবাচক দিকগুলো হল—-বুদ্ধিমত্তা,স্বাধীনচেতা মনোভাব,নির্ভরযোগ্যতা,আত্নপ্রতিষ্ঠা,শান্ত মনোভাব,মিশুক স্বভাব,মার্জিত আচরণ,অধ্যবসায়, বিশ্বস্ততা প্রভৃতি। নেতিবাচক দিকগুলো হল–ভীরুতা, লজ্জা, নির্বদ্ধিতা, অস্থিরতা, বিষণ্নতা, পরনির্ভরতা, নিষ্ঠুরতা, হীনম্মন্যতা, নির্জীবতা, শত্রুতা প্রভৃতি।

পরবর্তী অধ্যায়ে থাকবে —–মেধার বিকাশে পদক্ষেপ

(আইনস্টাইন,নিউটন, পিকাসোজ্জ এদের পরিশ্রমের ক্ষমতা নিয়ে ভাবলে তোমরা অভাক হবে,ভাবনার পাশাপাশি তারা নিরন্তর পরিশ্রম করছেন। তুমি কতটা পরিশ্রম কর ?)

সেলিম

লেখক

Related Posts